Class 7th Geography Chapter -3 Part-3 Questions And Answers | ক্লাস 7th ভূগোল সহায়িকা | সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর, পাহাড়ে কলম থেকে কালি বেরিয়ে আসে কেন? বারনৌলির নীতি কাকে বলে ?


সপ্তম শ্রেণীর 
ভূগোল



👉 ( Class 7th Geography Chapter -4 Part-1  Questions And Answers )


 প্রশ্ন:  পার্বত্য অঞ্চলে চাল, ডাল সিদ্ধ হতে চায় না কেন?

উত্তর: ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় বলে বায়ুর চাপও কমে যায়। সাধারণত প্রতি 110 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে । সেমি পারদস্তম্ভের সমান বায়ুচাপ কমে যায়। আবার বায়ুর চাপ কমলে জলের স্ফুটনাঙ্কও কমে যায়। তাই উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুচাপ কম থাকায় জল 100°C (জলের স্ফুটনাঙ্ক)-এর কম উয়তাতেই ফুটতে শুরু করে। ফলে চাল, ডাল সহজে সিদ্ধ হতে চায় না।


প্রশ্ন:  পাহাড়ের ওপর রান্নার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করা হয় কেন? 

উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর চাপ হ্রাস পায়, তাই পাহাড়ের ওপর বায়ুর চাপ কম হয় এবং সেখানে জল 100°C অপেক্ষা কম উদ্বৃতায় ফুটতে থাকে। জলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে রান্নাসামগ্রী সহজে সিদ্ধ করা যায় না। তাই কৃত্রিম উপায়ে প্রেসার কুকারের মাধ্যমে চাপ বৃদ্ধি করে স্ফুটনাঙ্ক বাড়িয়ে নিলে অল্প সময়ের মধ্যে রান্না করা যায়।


প্রশ্ন: পাহাড়ে কলম থেকে কালি বেরিয়ে আসে কেন?

উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর চাপ তত কমতে থাকে। বেশি উচ্চতায় উঠলে বায়ুমণ্ডলের চাপ অপেক্ষা কলমের ভিতরে বায়ুর চাপ বেশি থাকে। বাইরের চাপের তুলনায় কলমের ভিতরের চাপ বেশি হওয়ায় ওই অতিরিক্ত চাপে কলমের কালি বেরিয়ে আসে।


প্রশ্ন:  শ্বাস নেওয়ার সময় বুকটা ফুলে ওঠে কেন?

উত্তর: শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় আমাদের বুকটা ফুলে ওঠে এবং সংকুচিত হয়। প্রশ্বাসের সময় বিশুদ্ধ অক্সিজেন আমাদের শরীরে শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বাতাস ফুসফুসের ভিতরে চাপ দেয়। ফলে ফুসফুস বেলুনের মতো ফুলে ওঠে। স্ফীত ফুসফুসটি তার বাইরের ত্বক ও মাংসপেশিকে চাপ দেয় তাই আমাদের বুকটাও ফুলে ওঠে। আর নিশ্বাসের সময় যখন আমরা কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি তখন বুক সংকুচিত হয়।


প্রশ্ন:  বায়ুচাপ সবচেয়ে বেশি কোথায় হয় এবং কেন হয়? 

উত্তর: সমুদ্রপৃষ্ঠে বা সমুদ্র সমতলে স্বাভাবিক বায়ুর চাপ (1013.25 মিলিবার) সবচেয়ে বেশি হয়। কারণ- সমুদ্র সমতলে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এবং ওপরের বায়ুস্তরের প্রবল চাপে বায়ুর অণুগুলো পরস্পরের কাছে চলে এসে বায়ুর ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। এই বায়ুর মধ্যে প্রতি সেকেন্ডে অণুগুলোর ধাক্কা বেড়ে যায়, ফলে বায়ুচাপ বেশি হয়।


প্রশ্ন:  কীভাবে পৃথিবীতে বায়ুচাপের সমতা বজায় থাকে?

উত্তর: বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণেই উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। জলের সমোচ্চশীলতা ধর্মের মতোই এই বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমেই পৃথিবীতে উচ্চচাপযুক্ত ও নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের মধ্যে বায়ুচাপের ভারসাম্য বা সমতা বজায় থাকে।

উদাহরণ: কোনো নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলে বায়ুচাপ যত বেশি কমতে থাকে, বায়ুচাপের সমতা বজায় রাখার জন্য আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু তত বেশি গতিবেগে ওই অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে।


প্রশ্ন:  কোনো জায়গায় আগুন লাগলে চারদিকের বায়ু সেখানে ছুটে আসে কেন?

উত্তর: কোনো জায়গায় আগুন লাগলে সেই জায়গার বায়ু তাপের প্রভাবে আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়, ফলে ওই স্থান সাময়িকভাবে বায়ুশূন্য হয়ে যায়। তখন ওই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য চারপাশের শীতল ভারী বায়ু ছুটে আসে।


প্রশ্ন:  দৈনন্দিন জীবনে বায়ুচাপের কয়েকটি ব্যবহারিক প্রয়োগ উল্লেখ করো। 

উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে বায়ুচাপের বিভিন্ন প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। যেমন- ড্রপারের সাহায্যে কালি তোলা যায়। ইনজেকশনের সিরিঞ্জের ভিতর ওষুধ ভরতি করা যায়। ঠান্ডা পানীয়ের বোতল থেকে বা ডাব থেকে সরু পাইপের সাহায্যে অভ্যন্তরস্থ তরল পান করা যায়। টিকটিকি সহজে দেয়ালের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারে।


প্রশ্ন:  হাতি শুঁড় দিয়ে জল তুলে কীভাবে স্নান করে?

উত্তর: বায়ুর চাপের জন্য হাতি শুঁড় দিয়ে জল তুলে স্নান করতে পারে। এক্ষেত্রে হাতির শুঁড় ফাঁপা নলের মতো কাজ করে। জল তোলার সময় হাতি শুঁড়ের ভিতরের বায়ু ফুসফুসে টেনে নেয়। শুঁড়ের ভিতরে একটি শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়। বাইরের বায়ুর চাপে শুঁড়ের মধ্য দিয়ে জল ঢোকে।

এরপর হাতি শুঁড় উঁচু করে ফুসফুসের জমা বায়ু দিয়ে চাপ দেয়, ফলে জল বাইরে বেরিয়ে এসে সারা শরীর ভিজিয়ে দেয়।



প্রশ্ন:  টিকটিকি খাড়া দেয়ালে চলাফেরা করে কী করে?

উত্তর:  টিকটিকির পায়ের তলায় ছোটো ছোটো বায়ুপূর্ণ ছিদ্র থাকে। খাড়া দেয়ালে যখন টিকটিকি চলে তখন পায়ের চাপে ওই ছিদ্রগুলি দিয়ে বাতাস বের করে দেয়। বাইরের বায়ুর চাপে দেয়ালের সঙ্গে তার পা আটকে থাকে। তাই টিকটিকি দেয়াল বেয়ে চলাচল করতে পারে।


প্রশ্ন:  বারনৌলির নীতি  কাকে বলে ? ?

উত্তর: কোনো স্থানে বায়ুর গতিবেগ যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, সেই স্থানে বায়ুর চাপ ততই কমতে থাকে। অর্থাৎ, বারনৌলির নীতি অনুসারে বায়ুর বেগ ও বায়ুর চাপের মধ্যে ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে।


প্রশ্ন:  বায়ুপ্রবাহের উৎসে বায়ুর চাপ কীরূপ থাকে?

উত্তর: বায়ুপ্রবাহের উৎসে বায়ুর উচ্চচাপ থাকে, কারণ বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।

Comments

Popular posts from this blog

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, ট্রুম্যান নীতি কী? মার্শাল পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল? | Class 12th History Suggestion

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে মুজিবর রহমানের ভূমিকা | Class 12th History Suggestion

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, সাম্রাজ্যবাদ কাকে বলে? সাম্রাজ্যবাদের বিস্তারের কারণগুলি লেখো। | Class 12th History Suggestion