Class 7th Geography Chapter -5 Part-2 Questions And Answers | ক্লাস 7th ভূগোল সহায়িকা | সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর, 'নদীর নিম্নগতিতে প্রায়ই বন্যা হয়' - কারণ ব্যাখ্যা করো | নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজ। ব্যাখ্যা করো।


সপ্তম শ্রেণীর 
ভূগোল



👉(Class 7th Geography Chapter -5 Part-3  Questions And Answers)


প্রশ্ন:  'নদীর নিম্নগতিতে প্রায়ই বন্যা হয়' - কারণ ব্যাখ্যা করো। 

🢖🢖উত্তর: নদীর নিম্নগতিতে প্রায়ই বন্যার কারণগুলি হল -

🢖🢖 জলের জোগান বৃদ্ধি: নদীর উপনদীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের মাধ্যমে বাহিত জল মোহানার কাছে প্রধান নদীখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, ফলে নদীতে জলের জোগান বৃদ্ধি পায়।

🢖🢖ভূমি ঢালের হ্রাস: নিম্নগতিতে ভূমিঢাল প্রায় থাকে না ফলে নদীর গতিবেগ একদমই থাকে না, নদী অল্প বাধা পেলেই বাঁক নেয়।

🢖🢖 অগভীর নদীখাত: ভূমি ঢাল ও নদীস্রোেত প্রায় থাকে না বলে নিম্নগতিতে নদী প্রধানত সঞ্চয় করে। উচ্চ ও মধ্যগতি থেকে ক্ষয়িত ও বাহিত পলি, বালি নিম্নগতিতে নদীবক্ষে জমা হতে থাকে, ফলে নদীখাত ক্রমশ ভরাট হয়ে অগভীর হয়ে পড়ে।

🢖🢖 অতিরিক্ত বর্ষণ : বর্ষাকালে অতি বৃষ্টির ফলে জলের জোগান হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, অথচ নদীগর্ভ অগভীর থাকায় ওই জল বহন করতে পারে না, ফলে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়।


প্রশ্ন:  'নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে বেশি বাঁক দেখা যায় কেন'? - কারণ ব্যাখ্যা করো।

🢖🢖উত্তর: নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে যেখানে ভূমির ঢাল অত্যন্ত কম সেখানে সম্মুখে সামান্য একটু বাধা পেলেই নদীপ্রবাহ বেঁকে যায়, একে নদী বাঁক বা মিয়েন্ডার বলে। মধ্য ও নিম্নগতিতে বহু নদীবাঁক দেখা যায়। কারণ -

🢖🢖 উচ্চপ্রবাহ থেকে বয়ে আনা ক্ষয়জাত পদার্থের সঙ্গে উপনদী দ্বারা বয়ে আনা পলি যুক্ত হয়ে বোঝার পরিমাণ বেড়ে যায়। ঢাল কম হওয়ায় এই অংশে নদীর গতিবেগ কম থাকে। এই দুই কারণে নদীর ক্ষয় করার শক্তি একেবারেই থাকে না। ফলে নদী কোনো বাধার সম্মুখীন হলে তা ক্ষয় করতে না পেরে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উদাহরণ: গঙ্গা নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে অনেক বাঁক দেখা যায়। 


প্রশ্ন:নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়  কাজ। ব্যাখ্যা করো।

🢖🢖উত্তর: নদীর উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত যে-সমস্ত কার্যাবলি পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হল- ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজ।

যেমন-

🢖🢖ক্ষয়কাজ: নদীর উৎস অঞ্চল বা পার্বত্যগতিতে ভূমির ঢাল অনেক বেশি থাকে বলে নদী প্রবলবেগে উপত্যকা ধরে বয়ে চলে। এর ফলে এই অংশে নদী মূলত ক্ষয়কাজ করে থাকে। প্রসঙ্গত, উচ্চপ্রবাহে নদী নিম্নক্ষয় এবং পার্শ্বক্ষয় উভয়ই করে থাকে।

উৎপন্ন ভূমিরূপ: নদী ক্ষয়কাজের দ্বারা 'V' ও 'I' আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত প্রভৃতি গড়ে তোলে।

🢖🢖 বহন কাজ: নদী যখন পার্বত্য প্রবাহ ছেড়ে ধীরে ধীরে সমভূমি অঞ্চলে প্রবেশ করে সেখানে ভূমিঢাল দ্রুত কমে যায় বলে নদী ক্ষয় করতে পারে না। ফলে এই অবস্থায় নদী তার উৎস থেকে বয়ে আনা নুড়ি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি পদার্থগুলিকে শুধুমাত্র বহন করে।

🢖🢖 সঞ্চর কাজ: নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল প্রায় একেবারেই থাকে না। এই অবস্থায় নদী ধীরে ধীরে সমুদ্রে নেমে আসে। নিম্নগতিতে নদীর গতিবেগ অত্যন্ত মন্থর হয়ে যায় বলে নদী তার উপত্যকা বরাবর পলি, বালি, কাদা প্রভৃতি ক্রমাগত সঞ্চয় করতে থাকে।

উৎপন্ন ভূমিরূপ: নদীর সঞ্চয় কাজের দ্বারা নদী-দ্বীপ, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, বদ্বীপ, প্লাবনভূমি প্রভৃতি গড়ে ওঠে।


Comments

Popular posts from this blog

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, ট্রুম্যান নীতি কী? মার্শাল পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল? | Class 12th History Suggestion

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে মুজিবর রহমানের ভূমিকা | Class 12th History Suggestion

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস, সাম্রাজ্যবাদ কাকে বলে? সাম্রাজ্যবাদের বিস্তারের কারণগুলি লেখো। | Class 12th History Suggestion